Sunday, July 24, 2016

মাসিকের ব্যথা কমাতে ঘরোয়া ৫ উপায়ে



মাসিকের ব্যথা কমাতে ঘরোয়া ৫ উপায়ে

ঋতুস্রাব মেয়েদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই সময় অনেকের পেট ব্যথা হয়ে থাকে। কারোর কারোর এই ব্যথার পরিমাণ অনেক বেশি এবং প্রকট হয় যা দৈনিক স্বাভাবিক জীবনযাপনে বাঁধা সৃষ্টি করে। এই ব্যথা উপশমে অনেকেই ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে থাকেন। এই ওষুধ সব সময় কাজ করে না। ওষুধের পরিবর্তে ঘরোয়া কিছু উপায়ে এই ব্যথা দূর করা সম্ভব।








১। আদা
একটি ছোট আদা কুচি এক কাপ পানিতে ৫ মিনিট ফুটিয়ে নিন। জ্বাল হয়ে এলে এতে মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে নিন। মাসিক চলাকালীন সময় এটি নিয়মিত পান করুন। এছাড়া প্রতিদিনকার খাবারে আদা রাখুন। আদাতে থাকা উপাদান মাসিকের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
২। অ্যালোভেরা রস
অ্যালোভেরা রসের সাথে মধু মিশিয়ে একটি জুস তৈরি করে ফেলুন। মাসিকের ব্যথার সময় এটি পান করুন। দিনে কয়েকবার এটি পান করুন। ব্যথা অনেকখানি কমিয়ে দেবে এই পানীয়টি।
৩। দারুচিনি
দারুচিনির অ্যান্টিকোটিং, অ্যান্টি ইনফ্লামেটরী উপাদান মাসিকের ব্যথা কমিয়ে দেয়। এক কাপ গরম পানিতে এক চার চা চামচ দারুচিনির গুঁড়ো দিয়ে জ্বাল দিন। এরপর এতে মধু মিশিয়ে নিন। তারপর পান করুন। মাসিক শুরু হওয়ার দুই তিন দিন আগ থেকে এটি পান করুন। এছাড়া এক গ্লাস গরম পানিতে আধা চামচ দারুচিনির গুঁড়ো এবং এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন। এটিও আপনার মাসিকের ব্যথা দূর করে দেবে।
৪। ধনে বীজ
এক গ্লাস গরম পানিতে ১৫ থেকে ২০ টি ধনে দিয়ে জ্বাল দিন। এক গ্লাস থেকে পানি আধা গ্লাস না হওয়া পর্যন্ত পানি জ্বাল দিন। এবার এটি ঠান্ডা করে পান করুন। এটি মাসিকের ব্যথা কমানোর পাশপাশি রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে।
৫। গাজরের রস
এক গ্লাস গাজরের রস আপনাকে দীর্ঘক্ষণ পেটে ব্যথা থেকে মুক্তি দেবে। মাসিক চলাকালীন প্রতিদিন এক গ্লাস গাজরের রস পান করার চেষ্টা করুন।
টিপস:
১। দেহের শুষ্কতারোধে প্রচুর পরিমাণ পানি এবং পানিজাতীয় খাবার খান। কেননা এই সময়টাতে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়।
২। এ সময়টায় কফি-জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। কফিতে মূলত ক্যাফেইন থাকে যা রক্তনালীসমূহকে উত্তেজিত করে তোলে।
৩। এই সময় রেড মিট খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৪। এছাড়া পেটে ব্যথার স্থানে গরম পানির সেঁক দিতে পারেন। গরম পানিতে গোসল আপনাকে আরাম দেবে।
লিখেছেন
নিগার আলম
ফিচার রাইটার, প্রিয় লাইফ










তুমি তীরে এসে এতটুকু আশ্বাস দাও যাতে আমি হতবিহ্ববল হয়ে যাই, আমার স্মৃতিরা কেদেঁ ফেলে আমার নোঙ্গর ছিড়েঁ যায়.....

মাত্র ২ ঘণ্টায় ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস সম্ভব



মাত্র ২ ঘণ্টায় ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস সম্ভব

ক্যান্সার জয় করে যিনি বেঁচে ফিরেছেন, তিনি যেন নতুন জীবন ফিরে পান। এই মারণ রোগকে হারিয়ে নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার লড়াইটাও বেশ কঠিন। তবে একদল গবেষক সম্প্রতি নতুন একটি পদ্ধতি আবিস্কার করেছে, যার মাধ্যমে মাত্র ২ ঘণ্টাতেই ধ্বংস হয়ে যাবে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ।






গবেষকরা এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, তারা যে পদ্ধতি আবিস্কার করেছেন, তাতে প্রথমে এক ধরণের ওষুধের তৈরি ইঞ্জেকশন ক্যান্সার আক্রান্ত টিউমারে সরাসরি প্রয়োগ করতে হবে। এরপর সেই টিউমারে এক ধরণের রশ্মি প্রয়োগ করতে হবে। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, এই পদ্ধতির মাধ্যমেই মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে ক্যানসারের কোষগুলি নষ্ট হয়ে যাবে।
টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, ক্যান্সার হলে যে কেমোথেরাপি প্রয়োগ করা হয়, তার ফলে শরীরের সমস্ত রোষে সেই রশ্মি প্রয়োগ হয়। কিন্তু এই পদ্ধতির মাধ্যমে শুধুমাত্র শরীরের যে অংশ ক্যান্সার আক্রান্ত হয়েছে, সেখানেই এই রশ্মি প্রয়োগ করা হয়।
গবেষকেরা এক রোগীর স্তন ক্যানসারের উপর এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে দেখেন। স্তন ক্যান্সার শরীরের সবথেকে জটিলতম সমস্যা। এবং এটি সারানোও খুব কঠিন। কিন্তু এই পদ্ধতি প্রয়োগের ফলে দেখা গিয়েছে, একবার সেরে যাওয়ার পর আর কোনও টিউমার তৈরি হয়নি।










তুমি তীরে এসে এতটুকু আশ্বাস দাও যাতে আমি হতবিহ্ববল হয়ে যাই, আমার স্মৃতিরা কেদেঁ ফেলে আমার নোঙ্গর ছিড়েঁ যায়.....

জেনে নিন যে ৭টি অভ্যাসে রক্তে সুগার বাড়ে



জেনে নিন যে ৭টি অভ্যাসে রক্তে সুগার বাড়ে

বর্তমানে ডায়াবেটিস বিশ্বে যেসব রোগ খুব চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এগুলোর মধ্যে একটি। অনেকেই এই সমস্যায় ভুগে থাকেন। রক্তের সুগার বেড়ে গেলে ডায়াবেটিস হয়। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস ডায়াবেটিস বা রক্তের সুগার বাড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের স্বাস্থ্য বিভাগে প্রকাশিত রক্তে সুগার বাড়িয়ে দেওয়ার কিছু কারণের কথা।
১। উচ্চ ক্যালোরির খাবারঃ পিৎজা, বার্গার, চকোলেট ইত্যাদি উচ্চ ক্যালোরির খাবার রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।



২। অতিরিক্ত কফি পানঃ বেশি কফি পান রক্তের সুগার বাড়ায়। চিনি ছাড়া বেশি কফি পান করলেও রক্তের সুগারের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
৩। শুষ্ক খাবারঃ শুকনো ফল শরীরের জন্য ভালো। তবে অতিরিক্ত শুকনো ফল রক্তের সুগার বেড়ে যায়।
৪। মানসিক চাপঃ কাজের চাপ, বিষণ্ণতা, অতিরিক্ত চাপ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। এতে শরীরে রক্তের সুগার বেড়ে যায়।
৫। শক্তি বর্ধক পানীয়ঃ কোমল পানীয়, শক্তিবর্ধক পানীয় ইত্যাদি রক্তের চাপ বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে থাকে উচ্চ ক্যালোরি, সুগার ও ক্যাফেইন। এগুলো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
৬। জন্ম নিয়ন্ত্রক ওষুধঃ জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধে ইসট্রোজেন হরমোন থাকে। এটি কিছু হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। এতে রক্তের সুগার বেড়ে যায়।
৭। কিছু অ্যান্টিবায়োটিকঃ ফ্লু রোধী ও সাইনাস রোধী কিছু অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে যেগুলো রক্তের সুগার বাড়িয়ে দিতে পারে।













তুমি তীরে এসে এতটুকু আশ্বাস দাও যাতে আমি হতবিহ্ববল হয়ে যাই, আমার স্মৃতিরা কেদেঁ ফেলে আমার নোঙ্গর ছিড়েঁ যায়.....

ধূমপানজনিত ক্ষতি কমাতে ভিটামিন সি



ধূমপানজনিত ক্ষতি কমাতে ভিটামিন সি

ধুমপান যে স্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকর সে সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। সবাই এটা জানেন, কিন্তু মানেন না। অতিরিক্ত ধূমপানে ফুসফুসের প্রদাহজনিত ব্যাধি, যা ২০২০-র মধ্যে ক্যান্সার ও হৃদ্‌রোগের পরে তৃতীয় প্রাণঘাতী রোগ হিসেবে দেখা দিতে চলেছে। আর এই ফুসফুসের প্রদাহ থেকে বাঁচতে একমাত্র ভরসা ভিটামিন সি।



পশ্চিমবঙ্গের বালিগঞ্জ বিজ্ঞান কলেজের অধ্যাপক কৌস্তুভ পাণ্ডা ও তার চার সহযোগী ইন্দ্রনীল গুপ্ত, সৌরদীপ্ত গঙ্গোপাধ্যায়, ক্রিস্টিন রোজানাস ও ডেনিস স্টুহ এমনটাই দাবি করেছেন। বহু বছরের গবেষণাসমৃদ্ধ তাদের পর্যবেক্ষণ ‘প্রসিডিংস অব ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস’ (পিএনএএস) জার্নালে আজ প্রকাশিত হচ্ছে। ধূমপানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে কৌস্তুভের কাজ চলছে দু’দশকেরও বেশি সময় জুড়ে।
ফুসফুসে ধূমপানের প্রভাব নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন বিজ্ঞানী ইন্দুভূষণ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তখন অত্যাধুনিক যন্ত্র ছিল না। তবু তারা দেখিয়েছিলেন, সিগারেটের ধোঁয়া ফুসফুসের কোষের ক্ষতি করে। তিনি বলেন, ‘‘সিগারেটের ধোঁয়ায় হাজার হাজার রাসায়নিক। কোনগুলো কী ভাবে ক্ষতি করছে জানার জন্য প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক কম্পিউটার বা সফ্‌টওয়্যার তখন আমাদের হাতে ছিল না। এখন এসেছে। তাই অনেকটা নির্ভুল ভাবে ক্ষতির ছবিটা বুঝতে পারছি।’’ গবেষকদের বক্তব্য, সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকে এমন সব পদার্থ, যারা কিনা ইলেকট্রন খোঁজে। প্রক্রিয়াটির বৈজ্ঞানিক নাম অক্সিডেশন, আর ওই সব পদার্থকে বলে অক্সিড্যান্ট। অক্সিড্যান্টদের ‘ইলেকট্রন ক্ষুধা’ মেটাতে গিয়ে ফুসফুসের কোষ নমনীয়তা হারায়। ভেঙে যায়।
এ দিকে ফুসফুসের মূল কাজ হল রক্ত পাম্প করা, যার জন্য তার কোষের আস্তরণ খুবই পেলব হতে হয়। অথচ অক্সিড্যান্টদের প্রভাবে ভঙ্গুর হয়ে পড়া কোষগুলো ওঠা-পড়ার ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলে। পরিণামে অসুস্থতা। কৌস্তুভরা জ্যান্ত গিনিপিগ ও মৃত মহিলার (জীবিত মানুষ নিয়ে পরীক্ষা নিষিদ্ধ) ফুসফুসের কোষে সিগারেটের ধোঁয়ার প্রভাব পরীক্ষা করেছেন দু’ভাবে। (১) কোষগুলিকে আগাম ভিটামিন সি-তে জারিত করে তার পরে ধোঁয়া পাঠিয়ে। (২) ধোঁয়ার মুখে ভিটামিন সি-কে ছাঁকনি হিসেবে ব্যবহার করে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষা হয়েছে শুধু মানবদেহের কোষের উপরে।
দেখা গিয়েছে, দুই পরীক্ষাতেই ধোঁয়ার ক্ষতিকর প্রভাব রোখা গিয়েছে। এবং এরই ভিত্তিতে তাদের সিদ্ধান্ত: সিগারেটের ধোঁয়াজনিত ফুসফুসের কোষের ক্ষতি ঠেকাতে ভিটামিন সি মোক্ষম দাওয়াই। পাশাপাশি পাঁচ বছর আগে বিখ্যাত জার্নাল ‘সেল’-এ প্রকাশিত একটি তত্ত্বও তারা নস্যাৎ করেছেন। জার্মানি-অস্ট্রিয়ার এক দল গবেষক ওখানে দাবি করেছিলেন, সিগারেটের ধোঁয়ায় ফুসফুসের ক্ষতি মেরামতযোগ্য। কৌস্তুভরা দেখিয়েছেন, সে ক্ষতি মেরামতের বাইরে। সুতরাং তাদের মতে, ক্ষতি শুরুর আগেই ভিটামিন সি সেবনই বাঁচার পথ। কতটা ভিটামিন সি খেতে হবে? সিগারেটপ্রেমীরা জেনে রাখুন,  তাদের দেহের প্রতি কিলোগ্রাম ওজনপিছু ১০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি দৈনিক খাওয়া জরুরি।
অর্থাৎ যার ওজন ৬০ কেজি, তাকে রোজ ৬ গ্রাম ভিটামিন সি সেবন করতে হবে। কৌস্তুভের কথায়, ‘‘অনেকের কম সিগারেট খেয়েও ক্যানসার হয়। আবার অনেকে বেশি সিগারেট খেয়ে আক্রান্ত হন ফুসফুসের নানা মারণব্যাধিতে। যেমন, এমফিসেমা অথবা ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি)। ক্যানসারে কোষ সংখ্যায় বাড়ে। আর এমফিসেমায় জীবিত কোষ মরে। দুইয়েরই ফল মারাত্মক।’’ তবে এমফিসেমার ক্ষেত্রে আগেভাগে ভিটামিন সি বর্ম ব্যবহার করলে সুফল মেলে বলে দাবি করছেন কৌস্তুভ। সঙ্গে অবশ্য শোনাচ্ছেন হুঁশিয়ারিবার্তাও— ‘‘আমরা কিন্তু সিগারেট খেতে উৎসাহ দিচ্ছি না।
এমফিসেমার মতো ক্ষতি এক বার শুরু হলে ভিটামিন সি দিয়ে ভাল করা যায় না। শুধু বলছি, সতর্কতা হিসেবে ভিটামিন সি’র উপযোগিতা আছে।’’ তিনি জানান, ‘চ্যারিটি’র মতো তার দাওয়াইও শুরু হয়েছে নিজের বাড়ি থেকে। ‘‘আমার বাবার বয়স আশি পেরিয়েছে। ধূমপানের অভ্যেস ছাড়াতে পারিনি। তাই সাবধানতা হিসেবে কুড়ি বছর ধরে ভিটামিন সি খাওয়াচ্ছি।’’







তুমি তীরে এসে এতটুকু আশ্বাস দাও যাতে আমি হতবিহ্ববল হয়ে যাই, আমার স্মৃতিরা কেদেঁ ফেলে আমার নোঙ্গর ছিড়েঁ যায়.....

গরুর মাংস খাওয়া ছাড়লে যা হয়


গরুর মাংস খাওয়া ছাড়লে যা হয়

অনেকেই আছেন যারা গরুর মাংস খেতে পছন্দ করেন। যারা গরুর মাংস খেতে খুব ভালোবাসেন তারা আবার একবেলাও গরুর মাংস ছাড়া খাওয়ার কথা ভাবতেই পারেন না। তবে এত বেশি গরুর মাংস খাওয়া শরীরের জন্য নিরাপদ নয় মোটেও, স্বাস্থ্যসচেতন যে কেউই এ কথা জানেন।

বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, গরুর মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংসে ক্যানসার তৈরিকারী উপাদান কারসিনোজেন রয়েছে। প্রক্রিয়াজাত মাংস হলো—সসেজ, হট ডগ, হ্যাম বার্গার ইত্যাদি।







বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিদিন ৫০ গ্রামের বেশি প্রক্রিয়াজাত মাংস গ্রহণে ক্যানসারের ঝুঁকি ১৮ শতাংশ বেড়ে যায়।
গরুর মাংস খাওয়া কমিয়ে দিলে শরীরের অনেক জটিলতা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। গরুর মাংস খাওয়া ছেড়ে দিলে যা হয় তা জানিয়েছে টপ টেন হোমরেমিডি।
১. ওজন কমে 
গরুর মাংসের মধ্যে চর্বি থাকার কারণে ওজন বেড়ে যায়। আর খাওয়া কমিয়ে দিলে ওজন কমে।
২. হার্ট ভালো থাকে 
লাল মাংসের মধ্যে এক ধরনের উপাদান থাকে। একে এল কারনিটাইন বলে। এটি হার্টের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা তৈরি করে। সেইসাথে হার্টের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধলে হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। খাদ্যতালিকায় সবজি থাকলে এই সমস্যাগুলো প্রতিরোধ হয়।
এ ছাড়া অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে রক্তে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। কাজেই গরুর মাংস কম খান, হার্টের ওপর চাপ কমান।
৩. ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায় 
বিশেষজ্ঞরা বলেন, লাল মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস বেশি খেলে ক্যানসার হতে পারে। এটি কোলোরেক্টার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
৪. আয়ু বাড়ে 
মাংস খাওয়া, বিশেষ করে লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংস আয়ু কমিয়ে দেয়। ২০০৩ সালে আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, যারা কম পরিমাণ মাংস খায় তারা দীর্ঘায়ু হয়ে থাকেন।
২০১২ সালের আর্কাইভ অব ইন্টারন্যাশনাল মেডিসিনের প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, যারা গরুর মাংস বেশি খায় তারা দ্রুত মারা যায়। কেননা এদের হৃদরোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, যারা নিয়মিত গরুর মাংস খান তাদের ১৮ শতাংশ বেশি ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে। আর যারা লাল প্রক্রিয়াজাত মাংস খান তাদের ঝুঁকি ২০ ভাগ বেড়ে যায়।
৫. কিডনি রোগের ঝুঁকি 
গরুর মাংস প্রথম শ্রেণির প্রোটিনের ভালো উৎস।  অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে এর মধ্যে থাকা বেশি প্রোটিন কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
৬. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় 
গরুর মাংস বেশি খেলে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। ওজন বাড়া, বিশেষ করে পেটের মেদ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। লো ক্যালোরির সবজির ডায়েট পেটের মেদ কমায় এবং ইনসুলিনের স্পর্শকাতরতা কমায়।
৭. উচ্চ রক্তচাপ কমে 
গরুর মাংসের অতিরিক্ত সোডিয়াম থাকে। এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে সোডিয়াম উচ্চ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। তাই অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। এটি হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
৮. রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিস প্রতিরোধ হয় 
যাদের রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিস রয়েছে তাদের কিছু কিছু খাবার খেলে সমস্যা কমে। গরুর মাংস রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিসের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। এটি খাওয়া কমিয়ে দিলে এই সমস্যা অনেকটা কমে।
৯. ইউরিক এসিড কমে 
অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। বেশি গরুর মাংস খাওয়া ত্বকের ব্রণ বাড়িয়ে দিতে পারে। এই খাবার কমিয়ে সবজি খেলে ত্বক ভালো থাকে।








তুমি তীরে এসে এতটুকু আশ্বাস দাও যাতে আমি হতবিহ্ববল হয়ে যাই, আমার স্মৃতিরা কেদেঁ ফেলে আমার নোঙ্গর ছিড়েঁ যায়.....

জেনে নিন ঘাড়ের বাত সমস্যায় কী করবেন


জেনে নিন ঘাড়ের বাত সমস্যায় কী করবেন

চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় ঘাড়ের বাতকে বলে সার্ভাইকল স্পনডাইলোসিস। আর সাধারণ বাংলায় বলে ঘাড়ের বাত। এ ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশের কশেরুকাগুলোর মধ্যকার ডিস্ক বা চাকতিসদৃশ তরুণাস্থির ক্ষয়প্রাপ্তি হয়। মানুষের মেরুদণ্ড ৩৩টি ছোট ছোট হাড় বা কশেরুকা (ভার্টি ব্রা) দিয়ে তৈরি। ঘাড়ের অংশে থাকে সাতটি কশেরুকা। এই কশেরুকাগুলো একটি অপরটির সাথে ডিস্ক ও লিগামেন্ট দিয়ে সংযুক্ত থাকে।
মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশ সামনের দিকে উত্তলভাবে বাঁকানো। সবচেয়ে বেশি বাঁকানো থাকে পঞ্চ ও ষষ্ঠ কশেরুকার মধ্যকার ডিস্ক বরাবর। এই ডিস্কে স্পনডাইলোসিস বেশি ঘটে। কারণ, এই পয়েন্টে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে।








ক্ষয়প্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় ডিস্ক তার পানি হারিয়ে ফেলে এবং শুষ্ক হয়ে ওঠে। সুস্থ অবস্থায় ডিস্কগুলো নরম,  স্থিতিস্থাপক এবং বেশি মজবুত। ডিস্কে যখন ক্ষয় শুরু হয় তখন তার নমনীয় তন্তুগুলো শক্ত হয়ে ওঠে এবং চাপের ফলে ভেঙে যায়। দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক ক্ষয়ে যায় এবং পাতলা হয়ে যায়। এতে কশেরুকাগুলোর প্রান্তগুলো পরস্পরের সাথে ঘষা খেতে থাকে এবং বিভিন্ন মাপের নতুন হাড়ের দানা দেখা দেয়। এই হাড়ের দানাগুলো সুচালো ও ধারালো। এক্স-রে পরীক্ষায় এগুলো ধরা পড়ে। যদি এই তীক্ষ হাড়ের দানাগুলোর কোনোটি স্নায়ুমূলকে খোঁচা মারে তাহলে হাতে তীব্র ব্যথার উদ্রেক হয়। হাড়ের দানাগুলো মাঝে মধ্যে স্নায়ুরজ্জুকেও চাপ দিতে পারে এবং পায়ে অসাড়তা ঘটাতে পারে। ক্ষয়প্রাপ্ত ডিস্ক তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যেতে পারে। সেটাকে বলে ‘স্লিপড ডিস্ক’। সে ক্ষেত্রে ডিস্ক স্নায়ুমূলের ওপর চাপ দিয়ে ব্যথা সৃষ্টি করে। স্লিপড ডিস্ক সাধারণত হয় দুর্ঘটনা,  হঠাৎ পড়ে যাওয়া কিংবা ঘাড়ে আঘাতের কারণে। যাই হোক, ডিস্কের স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে গেলে ক্ষয়প্রাপ্ত মেরুদণ্ডের নড়াচড়া সহজ হয় না।
স্পনডাইলোসিস সাধারণত ঘটে থাকে ঘাড়ের নিচের চারটি কশেরুকাতে, অর্থাৎ চতুর্থ থেকে সপ্তম কশেরুকাতে। ওপরের তিনটি কশেরুকায় স্পনডাইলোসিস খুব কম হয়, কারণ ওখানটায় খুব একটা চাপ পড়ে না। সার্ভাইকল স্পনডাইলোসিসের ব্যথা সর্বদা ঘাড়ের পেছন দিকে অনুভূত হয়, কখনোই ঘাড়ের সামনের দিকে অনুভূত হবে না। ব্যথা তীব্র হলে তা কাঁধে এবং বাহুর পেছনের দিকে কনুই পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কখনো কখনো ব্যথা হাতে এবং আঙুলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
একটি কথা মনে রাখতে হবে যে,  করোনারি হৃদরোগ বা এনজিনার ব্যথা বাহুর ভেতরের পাশে অনুভূত হয় এবং সচরাচর তা আঙুলে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘাড়ের নড়াচড়ায় এই ব্যথা বাড়ে না। কিন্তু সার্ভাইকল স্পনডাইলোসিসের ক্ষেত্রে ঘাড় নড়াচড়া করলে ব্যথা বেড়ে যায়। এ ছাড়া হৃৎপিণ্ডের ব্যথা সাধারণত বাঁ দিকে অনুভূত হয়।
রোগ নির্ণয়
স্পনডাইলোসিস হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এক্স-রে পরীক্ষা করা হয়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিটিস্ক্যান অথবা এমআরআই করা হয়ে থাকে।
এক্স-রেতে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ডিস্কের ক্ষয়। কশেরুকাতে বিভিন্ন মাপের নতুন হাড়ের দানা দেখা দিতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী অংশের ফাঁক কমে যায়।
সার্ভাইকল স্পনডাইলোসিসে স্নায়ুমূল আক্রান্ত হলে কিছু উপসর্গ প্রকাশ পায় :
  • ব্যথা
  • অসাড়তা
  • শক্ত হওয়া।
যদি ডিস্ক সরে যায় এবং স্নায়ুরজ্জুর ওপর চাপ পড়ে তাহলে হাত অবশ হয়ে যেতে পারে। নতুন হাড় গজানোর জন্যও স্নায়ুরজ্জুতে চাপ পড়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
চিকিৎসা পদ্ধতি
সার্ভাইকল স্পনডাইলোসিসের কারণে ঘাড়ে তীব্র ব্যথা হলে সাধারণত নম্নি লিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় :
১. ঘাড়ের নড়াচড়া বন্ধ রাখা
যেসব কাজকর্ম ঘাড়ে নড়াচড়া ঘটায় অবিলম্বে সেসব কাজ বন্ধ করে দিতে হবে। ভ্রমণের সময় ঘাড়ে ঝাঁকি লাগে বলে ভ্রমণও বন্ধ রাখতে হবে। যারা অফিস করেন, কিছু দিন তাদের অফিস করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
ঘাড়ের অসঙ্গত নড়াচড়া রোধ করতে সার্ভাইকল কলার ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রথম কিছু দিন ঘুমের সময়ও সার্ভাইকল কলার পরে থাকা ভালো- এতে ঘুমের মধ্যে অসাবধানতাবশত ঘাড়ের নড়াচড়া প্রতিহত হয়।
ঘুমানোর সময় ঘাড়টাকে চিত হয়ে কিংবা স্বাভাবিক অবস্থানের চেয়ে ১০-১৫ ডিগ্রি সামনের দিকে বাঁকিয়ে ঘুমানো উচিত। একটি স্বাভাবিক আকৃতির বালিশে ঘাড় সামনের দিকে বেশি বাঁকিয়ে থাকে। সুতরাং ঘুমানোর সময় এসব বালিশ পরিহার করতে হবে। ঘাড়ের মেরুদণ্ডকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য শোয়ার সময় খুব নিচু বালিশ কিংবা সার্ভাইকল পিলো ব্যবহার করতে হবে। মূলত এই বালিশ থাকবে ঘাড়ের নিচে।
২. ব্যথানাশক ওষুধ
ব্যথা থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তির জন্য ব্যথানাশক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। কখনো কখনো ব্যথা নিবারণের জন্য ইনজেকশনের প্রয়োজন হয়। ব্যথা কমানোর পর প্রকৃত চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
৩. গরম সেক
যখনই অস্থিসন্ধি বা হাড়ের গিরায় ব্যথা হয়, গিরার চারপাশের মাংসপেশিগুলো শক্ত হয়ে ওঠে এবং প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গিরার সচলতা কমিয়ে দেয়। মূলত পেশির সঙ্কোচনের দ্বারা প্রাকৃতিকভাবে শরীর প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়-এটাই আমরা করে থাকি সার্ভাইকল করার পর। কিন্তু মাংসপেশির সঙ্কোচন বা টান যখন বেশি হয় তখন ব্যথা সৃষ্টি হয়।
তাপ হলো মাংসপেশিকে শিথিল করতে সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা। এ কারণে পেশিতে গরম সেক দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে হট ওয়াটার ব্যাগ,  ইলেকট্রিক্যাল হিটিং প্যাড কিংবা ইনফ্রারেড ল্যাম্প ব্যবহার করা যেতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় গোসলের সময় ঘাড়ে গরম পানি ঢাললে।
অধিক পছন্দনীয় চিকিৎসাব্যবস্থা শর্টওয়েভ ডায়াথার্মি ও আল্ট্রাসাউন্ড হিট। এগুলো ফিজিওথেরাপিস্টরা দিয়ে থাকেন।
৪. ট্রাকশন
ডিস্ক সরে গিয়ে স্নায়ুমূলে চাপ সৃষ্টি করলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ট্রাকশন সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা। ট্রাকশনের ফলে দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী স্থান বৃদ্ধি পায় এবং এ কারণে স্নায়ুমূলের ওপর ডিস্কের চাপ শুরু হয়। ট্রাকশনের ওজন বাড়ানো কিংবা কমানো নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর। বসে ট্রাকশন দেওয়া যেতে পারে, কিংবা শুয়েও দেওয়া যেতে পারে। শোয়া অবস্থায় ট্রাকশন দিলে মাথার দিকের খাট ব্লক দিয়ে ৬-৯ ইঞ্চি উঁচু করে রাখতে হবে। ট্রাকশনের ফলে ব্যথা বেড়ে গেলে ট্রাকশন বন্ধ করে দিয়ে পদ্ধতিতে কোনো ত্রুটি আছে কি না তা পরীক্ষা করে সংশোধন করতে হবে।
৫. মালিশ বা ম্যাসাজ
ঘাড়ের টানটান পেশিগুলোকে শিথিল করতে মালিশ অত্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা। তবে ম্যাসাজ বা মালিশ করার সময় খেয়াল রাখতে হবে এসব যেন উল্টাপাল্টা করা না হয়। দুই কাঁধে এবং ঘাড়ে মালিশ করতে হবে ধীরে ধীরে। মাংসপেশিকে জোরে মুচড়ে দেওয়া যাবে না। এতে ক্ষতি হবে।
৬. ঘাড়ের মাংসপেশি শক্তিশালী করে তোলা
ঘাড়ের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়লে মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু পেশিগুলো যদি শক্তিশালী থাকে। তাহলে মেরুদণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে না। এতে মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। কিছু ব্যায়ামের মাধ্যমে ঘাড়ের মাংসপেশিকে শক্তিশালী করা যায়। তবে এসব ব্যায়াম করতে হবে প্রাথমিক ব্যথা মিলিয়ে যাওয়ার পর।
হাত দুটো একসাথে করে মাথার সামনে ঠেকিয়ে মাথাটাকে সামনের দিকে চাপ দিতে হয়। হাতের ওপর মাথার চাপ বাড়বে। তবে হাত দুটোও মাথার ওপর সমান চাপ দেবে।
হাত দুটো মাথার পেছনে নিয়ে মাথা পেছন দিকে চাপ দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে হাত দুটো যেন মাথার সামনে চাপ দেয়।
একইভাবে ডান হাত দিয়ে মাথার ডান দিকে ও বাম হাত দিয়ে মাথার দিকে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। মাথাও সমানভাবে হাতের ওপর চাপ দেবে।
মূলত হাত ও মাথা পরস্পরের দিকে চাপ এমন হতে হবে যেন মাথা বাঁকিয়ে যেতে না পারে। অর্থাৎ হাত যত জোরে মাথার দিকে চাপ দেবে। মাথাকে তত জোরে বিপরীত দিকে ঠেলতে হবে।
৭. শক্ত পেশি শিথিল করতে ব্যায়াম
প্রাথমিক ব্যথা সেরে যাওয়ার পর সার্ভাইকল স্পনডাইলোসিসের রোগীরা শক্ত ঘাড়, পিঠের উপরি অংশ ও কাঁধের পেশি শিথিল করতে কিছু ব্যায়াম করতে পারেন :
  • মাথা বাম ও ডানে ঘুরান।
  • মাথা বাঁকিয়ে সামনের দিকে আনবেন। অতঃপর পেছনের দিকে নেবেন।
  • মাথাকে ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘুরাবেন।
  • কাঁধ দুটো ওপরের দিকে তুলবেন ও নামাবেন। তারপর কাঁধ দুটোকে ঘুরাবেন।
  • হাত দু’টিকে নিজের দুই কাঁধের ওপর স্থাপন করে কনুই দুটো বৃত্তাকারে ঘুরাবেন।
লেখক : ডা. মিজানুর রহমান কল্লোলসহকারী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমাটোলজি বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল।








তুমি তীরে এসে এতটুকু আশ্বাস দাও যাতে আমি হতবিহ্ববল হয়ে যাই, আমার স্মৃতিরা কেদেঁ ফেলে আমার নোঙ্গর ছিড়েঁ যায়.....

চেহারায় বয়সের ছাপ পড়লে

চেহারায় বয়সের ছাপ পড়লে


অ্যান্টি অক্সিডেন্ট






মানুষের শরীরে কোষ থেকে শক্তি উৎপাদনের সময় কিছু ক্ষতিকর অণু তৈরি হয়, যেগুলো অক্সিজেনমুক্ত র‌্যাডিকেল হিসেবে পরিচিত। শরীরে উৎপন্ন হওয়া ছাড়াও এটি ধূমপান, র‌্যাডিয়েশন, সূর্যালোক এবং পরিবেশের অন্যান্য অবস্থা থেকে আসতে পারে। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হচ্ছে এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান, যা এই ক্ষতিকর অণুর বিরুদ্ধে কাজ করে এবং রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
শরীরে তৈরি হয় সে রকম একটি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হচ্ছে (Super Oxide Dismutase) এনজাইম। অন্যগুলো আসে খাবার থেকে। ভিটামিন এ-র বিটা ক্যারোটিন ভিটামিন-সি এবং ভিটামিন-ই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট নামে পরিচিতি।
অ্যান্টি অক্সিডেন্টের কাজ হচ্ছে শরীরকে অক্সিজেনমুক্ত র‌্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করা। কিন্তু এই কাজটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পুরোপুরি করতে পারে না। মানুষ বৃদ্ধ হওয়া অথবা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষতি বৃদ্ধি পেতে থাকে। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হার্টের অসুখ, ক্যানসার, চোখের ছানিসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞেরা মনে করেন, বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন সি এবং ই লাভের সর্বোকৃষ্ট উপায় হচ্ছে প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের অভাব পূরণের জন্য ভিটামিন ট্যাবলেট কোনো কাজেই আসে না। কারণ, এই ট্যাবলেট হজমের সময় ভেঙে অন্য উপাদানে পরিণত হয়।
ডিএনএ ও আরএনএ
ডিএনএ বা ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড হচ্ছে এমন একটি উপাদান, যা কোষের নিউক্লিয়াসের মধ্যস্থিত জিনে থাকে। প্রতিদিনই আমাদের দেহের কিছু ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশির ভাগ সময়ই এই ক্ষতি পূরণ হয়ে যায়। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং এই ক্ষতি আর ১০০ ভাগ পূরণ হয় না। তাই ডিএনএর এই অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে বয়স বেড়ে যাওয়ার একটা কারণ।
উন্নত দেশগুলোতে গবেষণা পর্যায়ে এমন কিছু পিল পাওয়া যাচ্ছে যাতে ডিএনএ এবং আরএনএ আছে। কিন্তু এসব পিল মুখে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিএনএ ও আরএনএ ব্যতীত অন্য সব উপাদানে পরিণত হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা কোষে পৌঁছাতে পারে না। এ জন্য এটি কোনো কাজও করতে পারে না।
ডিএইচইএ
আপনাকে বৃদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করে এমন একটি হরমোন হচ্ছে ডিএইচইএ (Dehydro epiandrosterone) বা ডাইহাইড্রো ইপি এন্ড্রোস্টেরন। এটি রক্তের মধ্য দিয়ে শরীরে ডিএইচইএ সালফেট রূপে পরিভ্রমণ করে কোষে পৌঁছার পর এটি DHEA -তে পরিণত হয়। বৃদ্ধদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের শরীরে DHEA Sulphate বেশি পরিমাণে থাকে। বাজারে DHEA জাতীয় কিছু জিনিস বিক্রি হয়। সেগুলো শরীরকে বৃদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করবে এ রকম বলা হলেও তা সঠিক কি না আজ পর্যন্ত জানা যায়নি।
অন্যান্য হরমোন
সম্প্রতি কিছু সংখ্যক মানুষের ওপর গবেষণা করে দেখা গেছে, ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া গ্রোথ হরমোন (মানুষের) মাংসপেশির শক্তি ও আকৃতিকে সংরক্ষণ করে। এটি মানুষকে বৃদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করে। অপর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রোথ হরমোন এবং অন্যান্য হরমোন যেমন ইনজেকশন ও টেস্টোস্টেরন বয়স্কদের শারীরিক দুর্বলতা প্রতিহত করে। ইনজেকশনের মাধ্যমে গ্রহণকৃত এই হরমোনগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হরমোনের গোলযোগসহ মারাত্মক হতে পারে। এসব হরমোন অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।
শেষ কথা
এখন পর্যন্ত এমন কোনো চিকিৎসা, ওষুধ বা পিল আবিষ্কৃত হয়নি, যা মানুষকে বৃদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া থেকে রক্ষা করতে পারে অথবা দীর্ঘ জীবনের সন্ধান দিতে পারে। তাই কোনো চটকদার বিজ্ঞাপন অথবা কারো কথা শুনে উৎসাহী হয়ে এমন কোনো ড্রাগ বা ওষুধ কিনবেন না যা আপনাকে বয়স বাড়া থেকে রক্ষা করে বা দীর্ঘ জীবনের সন্ধান দিতে পারে। এসব ড্রাগ কেনার আগে ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে বয়স ধরে রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, পরিমিত মাছ এবং নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। এসবের পাশাপাশি ত্যাগ করতে হবে ধূমপানের মতো বদভ্যাসও।
লেখক : ডা. ওয়ানাইজা
সহযোগী অধ্যাপিকা, ফার্মাকোলজি অ্যান্ড থেরাপিউটিকস, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ।








তুমি তীরে এসে এতটুকু আশ্বাস দাও যাতে আমি হতবিহ্ববল হয়ে যাই, আমার স্মৃতিরা কেদেঁ ফেলে আমার নোঙ্গর ছিড়েঁ যায়.....